২ দিনে ৩ খুন

আধিপত্যের লড়াইয়ে অশান্ত কক্সবাজার

coxbazar_633946095 copyশাহেদ ইমরান মিজান:
কক্সবাজার শহরে সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াই মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ দিন না পেরোতে নিহত হয়েছে ৩ জন। এর ফলে পর্যটন শহরের আইনশৃংখলা বাহিনী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সেই কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শহরে বাস করা লোকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি হঠাৎ করে মাথাছাড়া দিয়ে শহরের আলোচিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। মূলত আধিপত্য বিস্তার ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র মতে, কক্সবাজার শহরের পাহাড়ী এলাকা পাহাড়তলী, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, ঘোনার পাড়া, বৈদ্যঘোনা, বাদশা ঘোনা, জেলগেইট, বাসটামির্নাল লারপাড়া, ফাতেহার ঘোনা, খাজা মঞ্জিল, ইসলামপুর, বাচামিয়ার ঘোনা, আবু উকিলের ঘোনা, ইসলু ঘোনা, সমিতিবাজার, সাহিত্যিকা পল্লী, আমতলী, সবুজ সওদাগরের ঘোনা, গয়ামতী, লাইটহাউজ পাড়া, রহমতপুর, ও জেলা কারাগারসহ শহরের অর্ধেক এলাকায় এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসীরা রাজত্ব চালাচ্ছে। এসব এলাকায় ১৫টি বেশি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে রুমালিয়ারছড়ার রকি বাহিনী, সিফাত বাহিনী, হাসনাত বাহিনী, নুরু বাহিনী, বশর বাহিনী, সৌরভ বাহিনী, সালাহ উদ্দীন বাহিনী, রফিক বাহিনী, ডাকাত নুর আলম বাহিনী (নিহত), রমজান বাহিনী। এদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দু’শতাধিক সন্ত্রাসী। এরা সবাই পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। এসব সন্ত্রাসী হাতে দিনের পর দিন জিম্মি জীবন কাটাচ্ছে ওইসব এলাকার লোকজন।
স্থানীয় সূত্র মতে, প্রথম দিকে এক বাহিনী হয়ে গড়ে উঠলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা ও লুট করা সম্পদের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্টি হয় অন্তকান্দল। এই অন্তকোন্দলই আরেকটি বাহিনী গড়তে ভূমিকা রাখে। এর পরের চিত্র হয়ে উঠে আরো ভয়াবহ। কেননা তখন শুরু হয় আধিপত্যের লড়াই। রাজত্ব ভাগাভাগিতে এক সময়ে সতীর্থরা হয়ে উঠে গুলির টার্গেট! এমন টার্গেটে নিজের গড়া শিষ্য সিফাত বাহিনীর নির্মম ভাবে খুন হয়েছেন ঘোনারপাড়া জাকির মোস্তফা। একইভাবে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ার আরজুসহ একাধিক সন্ত্রাসী। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর খুন হয়েছে সমিতিবাজারের শেখ আব্দুল্লাহ। এক সময়ের সতীর্থ রকি বাহিনীর হাতেই নির্মমভাবে খুন হয় সে। ১৮ অক্টোবর খুন হয়েছে জেলগেইটের বশর বাহিনীর বশরের ডান ও বাম হাত খ্যাত নূরুল আলম ও বার্মাইয়া কালু। প্রতিপক্ষ রমজান বাহিনীর হাতে তারা খুনের শিকার হয়েছেন। রমজান বাহিনীর রমজানও এক সময় বশর বাহিনীর সাথে কাজ করতেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, দু’সন্ত্রাসী বাহিনী মধ্যে গোলাগুলি খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে নুরু আলম ও তার সহযোগী বার্মাইয়া কালুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট