উখিয়ায় জাল দলিলে ৭ কোটি টাকার জমি দখল

সিআইডি’র তদন্তে সত্যতা মিলেছে

শফিক আজাদ, উখিয়া:
উখিয়ার নিদানিয়ায় ভূঁয়া টিপসহির মাধ্যমে জাল দলিল সৃজন করে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ফসলী জমি হাতিয়ে নিয়েছে। জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানো সম্পত্তি ফিরে ফেতে মামলা করায় ওই প্রভাবশালী প্রতারকচক্র প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি ধমকি প্রদর্শণ করছে। সম্প্রতি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সিআইডি প্রদত্ত প্রতিবেদনে জাল দলিল প্রমাণিত হওয়ায় এলাকায় চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনে দায়েরকৃত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, উপকূলের নিদানিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ছৈয়দ আহমদ ও মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ছিদ্দিক আহমদ ২ একর ৪৬ শতক খাস জমি ১৯৮১-৮২ সনে বন্দোবস্তি মোকদ্দমামূলে স্বত্ত্ববান হইয়া ভোগদখল করে আসছিল। জেলার শীর্ষ জামায়াত নেতা জনৈক হাজী ছৈয়দ আলম শঠামীর আশ্রয় নিয়ে ১৯৯৯ সালে ৪৫৩ নং ভূঁয়া রেজিঃ কবলামূলে ওই জমি ক্রয় দেখিয়ে জবর দখল করে নেয়। এঘটনায় জমির মালিকদ্বয় জাল, ফেরবী কবলা বিষয় জানতে পেরে উক্ত কবলা বাতিলের জন্য উখিয়া সহকারি জজ আদালতে একটি অপর ৯০/২০১২ইং মামলা দায়ের করেন। বিগত ৫ মে ১৯৯৯ইং তারিখে উক্ত জাল কবলার টিপসহি প্রকৃত নয় দাবী করে জমির মালিকদ্বয় ঢাকাস্থ সিআইডি’র এক্সপার্টে আবেদন করলে বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকাস্থ সিআইডি কর্মকর্তা এ.টি.এম. মাইদুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক ও অংগুলাংক বিশারদ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান হলুদ বর্ণের কার্ট্রিজ কাগজে নেয়া ছিদ্দিক আহমদ ও ছৈয়দ আহমদের আংগুলের নমুনা ছাপগুলোর সাথে মিল নাই বলে প্রদত্ত প্রতিবেদনে উলেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে প্রতারক হাজী ছৈয়দ আলমের ক্রয় করা ২.৪৬ একর জমির বর্ণিত দলিলটি জাল দলিল হিসেবে আদালতে প্রমাণিত হয়। এঘটনায় উখিয়ার সহকারি জজ আদালত উক্ত বির্তকিত জমি কোন প্রকার হস্তান্তর বা দলিল সৃজন না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এদিকে জমির মালিকদ্বয় উক্ত জমি দখল বেদখলের ঘটনা নিয়ে প্রাণহানির আশংকা করে বিগত ২৫ আগস্ট ২০১৪ ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিদের্শ দেন। জমির মালিক ছৈয়দ আহমদ ও ছিদ্দিক আহমদ বলেন, প্রতিপক্ষ হাজী ছৈয়দ আলম ভাতিজা হয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। জীবন জীবিকার তাগিদে আমাদের বন্দোবস্তিকৃত জমিগুলো ফেরত দাবী করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এব্যাপারে জানতে চাইলে হাজী ছৈয়দ আলম এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, উক্ত জমি সে কবলামূলে ক্রয় করে ভোগদখল করছে। উখিয়া সহকারী কমিশনার ভূমি এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, উভয়পক্ষকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী শুনানীর দিন হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট